প্রিন্ট এর তারিখঃ May 4, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ May 4, 2026 ইং
কাবাডি খেলোয়াড়দের বোনাসে ১০% চাঁদা আদায়ের অভিযোগ, বিতর্কে ফেডারেশন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া পুরস্কার অর্থ থেকে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের বিরুদ্ধে। খেলোয়াড়, রেফারি ও বিচারকদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের কথা বলে এই অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, বিশ্বকাপ কাবাডি ও এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেওয়া ১৫ জন নারী খেলোয়াড়ের প্রাপ্ত বোনাস থেকে ১০ শতাংশ হারে প্রায় তিন লাখ টাকা সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। বিষয়টি নিয়ে খেলোয়াড়দের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।গত বছর ইরানের তেহরানে অনুষ্ঠিত এশিয়ান কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপে দীর্ঘ ২০ বছর পর ব্রোঞ্জ পদক জেতে বাংলাদেশের নারী দল। এর আগে ২০০৫ সালে প্রথম আসরে পাওয়া ব্রোঞ্জ হারানোর পর এটিই ছিল তাদের পুনরুদ্ধার করা সাফল্য। পরে বাংলাদেশেই অনুষ্ঠিত নারী কাবাডি বিশ্বকাপেও ব্রোঞ্জ অর্জন করে দলটি।
এই দুই আসরে অংশ নেওয়া দলের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন শ্রাবণী মল্লিক, বৃষ্টি বিশ্বাস, রুপালি আক্তার, স্মৃতি আক্তার, রেখা আক্তারি, মেবি চাকমা, আঞ্জুয়ারা রাত্রি, সুচরিতা চাকমা, খাদিজা খাতুনসহ আরও কয়েকজন খেলোয়াড়।গত মার্চে প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি টুর্নামেন্টের জন্য খেলোয়াড়দের এক লাখ টাকা করে বোনাস দেন। ফলে দুই প্রতিযোগিতার জন্য প্রত্যেকে মোট দুই লাখ টাকা করে পান। তবে সেই অর্থের ১০ শতাংশ ফেডারেশনের তহবিলে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, খেলোয়াড় ও সংশ্লিষ্টদের চিকিৎসা ও জরুরি সহায়তার জন্য একটি কল্যাণ তহবিল গঠনের কথা বলা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ১৫ জন খেলোয়াড়ের কাছ থেকে মোট তিন লাখ টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে কেউ কেউ এই অর্থ জমা দিলেও অনেকেই এখনও দেননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক খেলোয়াড় বলেন, তাদের অনেকেই পারিবারিক আর্থিক সংকটে আছেন এবং এই বোনাসের অর্থ দিয়ে পরিবারের প্রয়োজন মেটান। এমন অবস্থায় ফেডারেশনকে ২০ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হওয়া তাদের জন্য কষ্টকর।এ বিষয়ে ফেডারেশনের কোষাধ্যক্ষ মাসুদুর রহমান চুন্নু জানান, এমন প্রক্রিয়া আগে থেকেই চালু রয়েছে। তবে বর্তমান কমিটির যুগ্ম সম্পাদক আবদুল হক এ বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, তিনি এত বড় অঙ্কের অর্থ নেওয়ার বিষয়ে অবগত ছিলেন না।
অন্যদিকে, সাবেক কোষাধ্যক্ষ এসএমএ মান্নান দাবি করেন, অতীতে খেলোয়াড়দের কাছ থেকে এভাবে অর্থ নেওয়ার নজির নেই। বরং বিদেশে দায়িত্ব পালনকারী রেফারিদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট অঙ্ক নেওয়া হতো।
বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক ফুটবলার ও ক্রীড়া সংগঠক আবদুল গাফফার। তিনি বলেন, ক্রীড়াবিদদের প্রাপ্য বোনাস থেকে চাঁদা আদায় করে তহবিল গঠন করা অত্যন্ত নিন্দনীয়। প্রয়োজনে অন্য উৎস থেকে তহবিল গঠন করা উচিত বলেও মত দেন তিনি।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ Mirror News